গত রবিবার রাজধানীর ওয়ারীতে ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশের গুলিতে নিহত ফেরদৌস আহমেদ আকাশকে নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ফেরদৌসের মা আলেয়া বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, থানায় আমার ছেলের নামে কোনো মামলা নেই। শুধু ছাত্রদল করার কারণেই পুলিশ গুলি করে তাকে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, আমার ছেলের নামে স্থানীয় থানায় কোনো ছিনতাইয়ের মামলা নেই। সে কেরানীগঞ্জ থানার ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিল। এ কারণে পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।’
তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। থানা পুলিশের দাবি, বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এমনকি বিএনপি নেতারাও তাকে ছিনতাইকারী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, তাকে আমি চিনি না। তার বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা মামলা রয়েছে বলেও শুনেছি।
ওসি আরও বলেন, এক বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন, কিসের? ওতো ছিনতাইকারী।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতালের মর্গে ছেলের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের মা আলেয়া বেগম পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পাশে কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে আসেন মা আলেয়া বেগম, ছোট বোন শারমিন আক্তার ও স্ত্রী আমেনা আক্তার নীলা। ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আলেয়া বেগম বলেন, ফেরদৌস আহমেদ আকাশ (২৯) গুলিস্তান ফুটপাতে মোবাইলের ব্যবসা করতো। সে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিল।
পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিনজিরা শহিদনগর এলাকায় থাকতেন আকাশ। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার সাড়ে ছয় বছরের একমাত্র মেয়ে সুরাইয়া আক্তার স্থানীয় কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের কেজি শ্রেণিতে পড়ে। নিহত ফেরদৌস আহমেদ আকাশ বরগুনা জেলার বেতাগী থানার কাজিরাবাদ গ্রামের মৃত রুস্তুম আলীর ছেলে।
নিহতের মা আলেয়া বেগম দাবি করেন, আমার ছেলে কখনও ছিনতাইকারী ছিল না। তার বিরুদ্ধে কোনো থানায় অভিযোগ বা মামলা নেই। তবে ছাত্রদল করার কারণে রাজনৈতিক মামলা থাকতে পারে। আমার ছেলে কেরানীগঞ্জ চড়াইল নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণি পাশ করেছে।
এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। কেন আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হলো?’
অভিযোগ রয়েছে-রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় ওয়ারী থানার টিকাটুলি অভিসার সিনেমা হলের পাশের গলিতে তিনজন মিলে ছিনতাই করছিল। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এতে আকাশের দুই পায়ে হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। পরে ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম তাকে বিকাল সাড়ে চারটার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে আকাশ মারা যান। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে তার লাশ শনাক্ত করেন।
ফেরদৌস সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিহত আকাশ ২০০৪ সালের কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত দুই নম্বর আসামি। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে মেরে তার পিস্তল নিয়ে যান। ওই ঘটনায় প্রথমে ডেমরা থানায় মামলা হয়। ঘটনাটি শহিদনগরে হওয়ায় মামলাটি কেরানীগঞ্জ থানায় নেয়া হয়।
ওসি আরও বলেন, তিনি গত বছর আমার থানার একটি ছিনতাই মামলার আসামি ছিলেন। এ মামলায় তিনি জেল পর্যন্ত খেটেছেন। পরে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় ছিনতাইয়ের কাজে যোগ দেন।

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন