যেকোনো সময় যেকারো হাতে খুন হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। টাইমস ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘তিন বছর ধরে সুইস দুতাবাসে কাটালেও আতঙ্কে চার দেয়ালের বাইরে বারান্দাতেও যান না।’ ঐ সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘জীবনের ভয়ে তিনি দুতাবাসের বারান্দা দিয়ে উঁকিও দেই না।’ তিনি বলেন, ‘বারান্দায় কিছু ঘটলে নিরাপত্তার কোনো দায় থাকবে না। অনেকের কাছ থেকেই হুমকি পাই আমি।’ অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘আমি শেতাঙ্গ ব্যক্তি। আমি ইসলাম গ্রহণ না করলে হয়তো আমাকে ড্রোনের মাধ্যমে হত্যা করার কোনো কারণ থাকবেনা। কিন্তু এমন অনেক কিছুই দেখার কারণে আমি শঙ্কিত।’ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি বিতর্কিত ব্যক্তি বলেই অনেকেই তাকে খুন করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, তাকে মুক্তি দেয়া হলেও তাকে অপহরণ করা হতে পারে কিংবা সিআইএ’র ড্রোনের মাধ্যমেও মৃত্যু হতে পারে তার। চলতি মাসের প্রথম দিকে সুইডিশ কৌশলিরা যৌনসন্ত্রাসে অভিযোগের মামলায় ‘সময় শেষ’ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে অ্যাসাঞ্জের কোনো স্বাক্ষ্য নেয়নি। আর সুইডিশ আইনমতে, স্বাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়া মামলার অগ্রগতি সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ান এই সাংবাদিক যৌনসন্ত্রাসের অভিযোগে নির্বাসিত এখানেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। তবুও তার ধারণা যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেয়া হবে যেখানে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে তাকে। লন্ডনের ইকুয়েডরের দুতাবাসে তিন বছর আশ্রিত থাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মাঝে রাখতে এখন পর্যন্ত ১২ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সামনের দুই বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস অ্যাসাঞ্জের। আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিয়েও। দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা তার। অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘সে লাতিন আমেরিকায় যেতে চেয়েছিলো, কিন্তু আমি তাকে রাশিয়ার কথা বলি। কারণ আমার মনে হয়েছে লাতিন আমেরিকায় থাকলে সিআইএ তাকে অপহরণ করতে পারে।’ স্নোডেন সিআইএ’র একজন কর্মচারি। এবং সেই উইকিলিকেসের মাধ্যমে গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে। বর্তমানে রাশিয়ায় এক অজানা স্থানে বসবাস করছেন তিনি।
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
- আপনার মতামত
- ফেসবুকে মতামত দিন
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন