অভাব অনটনকে জয় করতে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দেড় বছর আগে মালয়েশিয়া পাড়ি দেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বড়চর কয়ারিয়া গ্রামের আবু তাহের খানের ছেলে হামিম খান (২২)। কিন্তু বিধিবাম হওয়ায় সেখানে গিয়ে তিনি পড়েন এক প্রতারক চক্রের খপ্পরে। আর সেই চক্রের সদস্য একই গ্রামের জাকির হোসেন সরদারের ছেলে জাহিদ জনি (৩০) নড়াইল জেলার কালিয়া থানার জগানিয়া গ্রামের খন্দকার সোহরাব হোসেনের ছেলে মেহেদি হাসান (২৮) প্রথমে কাগজপত্র করে দেয়ার কথা বলে বাংলাদেশে দেড় লাখ টাকা নেয়। আর কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়ে সেখানে একটি হোটেল কেনার কথা বলে হামিমের কাছ থেকে ৫০ হাজার আর দেশে ইসলামী ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখার এ/সি-২০৫০১২৯০২০৩৪৫৬৩০২ নং একাউন্ট নাম্বারে গত ৯ই সেপ্টেম্বর একলাখ ৩০ হাজার টাকা নেয় যা কালকিনি শাখা থেকে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু টাকা প্রেরণের পরে ফোনে নিশ্চিত হয়ে প্রতারক চক্র আরেক নতুন ফন্দি আবিষ্কার করে। তারা মালয়েশিয়া একটি ভবনের কক্ষে ভুক্তভোগী হামিম খানকে আটকে রাখে এবং ব্যাপক মারপিট শুরু করে। অপরদিকে দেশে হামিমের পিতার কাছে ফোন দিয়ে তার ছেলের আর্তনাদের চিৎকার শোনায়। এসময় আটককারীরা আরো এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আর তা শিবচরের কাওড়াকান্দি বাংলাবাজারে একজন অপরিচিত লোকের হাতে দিতে বলে। না দিলে মালয়েশিয়া তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। ছেলের প্রাণরক্ষায় দিশেহারা পিতা নিজের স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে তাৎক্ষণিক ৯০ হাজার টাকা নিয়ে সেখানে পৌঁছায় এবং অপরিচিত এক লোক এসে ফোনে নিশ্চিত করে তা নিয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিপণ পেয়ে আটককারীরা হামিম খানকে ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে হামিমকে মালয়শিয়া বসে হত্যা করা হবে বলে ফোনে তার পরিবারকে চরমভাবে হুমকি দেয়া হয়। ফলে অসহায় পরিবারটি বিষয়টি পুলিশকে পর্যন্ত জানাতে ভয় পাচ্ছে। প্রতারক চক্রের সদস্যদের খপ্পরে পড়ে পরিবারটি ৪ লাখ টাকা হারিয়েও এখন আতঙ্কে রয়েছে।
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
- আপনার মতামত
- ফেসবুকে মতামত দিন
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন