728x90 AdSpace

ব্রেকিং
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোকেন রহস্যে ভারত ও লন্ডন যাবে তদন্ত দল

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার থেকে উদ্ধার করা কোকেনের রহস্যের খোঁজে ভারত ও লন্ডন যাচ্ছেন মামলার তদন্ত দল। ইতোমধ্যে বিষয়টি অবহিত করে ইন্টারপোলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
কামরুজ্জামান জানান, কোকেন মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামির জবানবন্দি রেকর্ডে কোকেন পাচারে জড়িত এমন তিনজন ভারত ও লন্ডনে অবস্থান করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এদের মধ্যে প্রাইম হ্যাচারির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা সোহেল জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবস্থানকারী ফজলু তার খালাতো বোনের জামাই। লন্ডনে অবস্থানকারী বকুল ও রেজা তারা পরস্পর আত্মীয়। এছাড়া কোকেন পাচারে জড়িত সকলের মধ্যে আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির রেকর্ডে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে আটক কোকেন চোরচালানের সঙ্গে দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। যারা নিত্যনতুন কৌশল হিসাবে ঘন ঘন রুট পরিবর্তন করে। নতুন রুট হিসাবে এখন বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেকর্ডে বলা হয়- কলম্বিয়া, বলিভিয়া, মেক্সিকো ও পেরুসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেই সচরাচর উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশে কোকেনের ছোট-বড় চালান চলে যায়। সাড়ে তিন মাস আগে বলিভিয়া থেকে সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের একটি চালান থেকে ৩১৫ কেজি কোকেন আটক করে কানাডিয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের ভাষ্য, কোকেনের এ চোরাচালানটি অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে বা দেশগুলোতে পাচারের কৌঁশল নেয়া হয়ে থাকতে পারে। এ পর্যন্ত চালানটির নেপথ্যে বাংলাদেশে যে ছয়জনের নাম উঠে এসেছে তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছয়জনের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তারা হলেন- খানজাহান আলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম ও আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল।
তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে এ মামলার তদন্ত আমরা প্রায় গুছিয়ে নিয়েছি। এবার তদন্ত হবে বিদেশে। তদন্তের অংশ হিসাবে তিনি ইতোমধ্যে ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়ার কথাও জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উরুগুয়ে কিংবা বলিভিয়া বিপজ্জনক দেশ। ওখানে গিয়ে তদন্ত কাজ পরিচালনা করা খুবই কঠিন। এ হিসাবে লন্ডন ও ভারতে তদন্ত কাজ পরিচালনা করার ব্যাপারে মনোযোগ দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন সন্দেহে একটি কনটেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গত ১২ মে উরুগুয়ের মন্টিভিডিও থেকে লোড (জাহাজিকরণ) হয়ে বলিভিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে ১০৭ ড্রাম সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের চালান চট্টগ্রাম বন্দরে ঢোকে। গত ৭ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫কেজি করে সান ফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়।
উন্নত ল্যাবে তেলের নমুনা পরীক্ষা করে একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
গত ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১ (খ) ধারায় গোলাম মোস্তফা সোহেলসহ দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং সামগ্রিক বিষয় অনুসন্ধানে ১০ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে সিএমপি কমিশনার।
এদিকে ৫৯ ও ৯৬ নম্বর ড্রামেও কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে কি পরিমাণ কোকেন ড্রামে রয়েছে তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। 
  • আপনার মতামত
  • ফেসবুকে মতামত দিন

0 facebook:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Item Reviewed: কোকেন রহস্যে ভারত ও লন্ডন যাবে তদন্ত দল Rating: 5 Reviewed By: Unknown