সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের দিন মামলায় অভিযুক্ত, সিলেট সিটি করপোরেশেনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবিরা তার পক্ষে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কারাগার কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আরিফের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেন। এবং ওই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতের কাছে প্রেরণেরও আদেশ রয়েছে। কিন্তু ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আদালতের আদেশের কপি এখনো কারাগার কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেনি।
রবিবার আলোচিত এ মামলার চার্জগঠনের দিনে আরিফুল হক চৌধুরীকে অসুস্থ দেখা গেছে। তিনি একা চলাফেরা করতে অক্ষম ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে কারা অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে নিয়ে আসেন। অ্যাম্বুলেন্স থেকে তাকে একটি হুইল চেয়ারে করে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। এসময় তার আইনজীবীরা দাবি করেন আরিফুল হক চৌধুরী মারাত্মক অসুস্থ। অবিলম্বে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি চলাফেরা করতে অক্ষম।
চার্জগঠনের পরপরই আরিফের আইনজীবীরা আদালতের কাছে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত কারাকর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনও ওইসময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন। কিন্তু কারাকর্তৃপক্ষের কাছে এখনো আদালতের আদেশের লিখিত কপি পৌঁছুয়নি। নামপ্রকাশ না করার শর্তে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটভিউ২৪ডটকমকে এ খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ওই হামলায় আরো নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় তৎকালীন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। গত ১১ জুন হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ থেকে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ৯ বার পেছানোর পর অবশেষে রবিবার অভিযুক্ত ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন