নগরীর শাহী ঈদগাহে শিশু ও পরিবার লোকজনকে জিম্মি করে হাফ প্যান্ট পরিহিত ডাকাতদল ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। শনিবার রাত ২টার দিকে বিএনপি নেতা এডভোকেট শামীম সিদ্দিকীর হুসনাবাদ আবাসিক এলাকার ১৫ নং বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গৃহকর্তা শামীম সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী বর্তমানে পবিত্র হজ্ব পালনে সৌদি আরবে রয়েছেন।
পরিবারের লোকজন জানান, গৃহকর্তার অবর্তমানে তার ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের ২ বছর বয়সী শিশু বাসায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার রাত ২টার দিকে হাফ প্যান্ট পরা ডাকাত দল বাসার পশ্চিমের গ্রীল ভেঙ্গে থাই দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। তারা বাসার সবাইকে এক রুমের মধ্যে জড়ো করে দা ও চাকু ধরে প্রাণে মারার ভয় দেখায়। তারা ২ বছরের শিশু জিম্মি করে দেশীয় অস্ত্র ধরে ঘরের সব চাবি তাদের কাছে নিয়ে যায়। বাসার সবকিছু মাটিতে ফেলে অন্ধকার ঘরে তারা টর্চ লাইট দিয়ে সবকিছু তল্লাশী করে। এ সময় তারা ৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ঘরে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থাকলেও তারা তা ফেলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাতরা রাত পৌনে ২টার দিকে হুসনাবাদ সংলগ্ন হাজারীবাগ এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে। এসময় ঐ এলাকার এক বাসিন্দা হাফপ্যান্ট পরিহিত ৪ জন লোককে পিঠে ব্যাগ ফেলে যেতে দেখেন। তিনি বিষয়টি হাজারীবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান পাপ্পুকে জানান। সাথে সাথে পাপ্পু এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। ওসি ফোর্স সহ হাজারীবাগ হুসনাবাদ আবাসিক এলাকায় এলেও শুধুমাত্র দুটি গলিতে টহল দেন।
আমিনুর রহমান পাপ্পু জানান,তিনি এলাকার ২০/২৫জন যুবককে নিয়ে পুলিশের সাথে দুইগলির মধ্যবর্তী টিলা বাসাবাড়ি খুঁজতে থাকেন । রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা খোঁজা হয়। এ সময় পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে টহল দেয় এবং হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন বাসা চেক করে। তারপরও কাউকে পায়নি।
গৃহকর্তা শামীম সিদ্দিকীর বড় ভাই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) জুবায়ের সিদ্দিকী বলেন,ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করে। আজান হওয়ার পর তারা একজন একজন হয়ে বের হয়ে চলে যায়।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে টহল শুরু করেন। কিন্তু, ডাকাতরা লাইট অফ করে অপারেশন চালানোয় তাদের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন