সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বন্ধি রয়েছেন কারাগারে। বন্ধিতে থাকা দিনগুলোতে কেউ সাথী না হলেও তার সাথী হয়েছে বেদনা আর চোখের জল। তবে তার কারাবন্ধি দিনগুলোতে একটু শান্তি ও পুরোপুরি সুস্থতাসহ অনেক কিছু নির্ভর করছে আজ বুধবারের মেডিকেল রিপোর্ট। এ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে মাননীয় আদালত দিবেন পরবর্তী নির্দেশ। যে তিনি দেশের কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবেন, না বিদেশের কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন, না কারাগারেই থাকবেন।
আজ সকালে আরিফুল হককের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে। আরিফের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য আদালতের আদেশটি মঙ্গলবার দুপুরে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁচেছে। ফলে দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেক শুভা কাংখিদের দৃষ্টি এখন হাসপাতালের রিপোর্ট ও আদালতের দিকে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যায় অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্তকৃত সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে গত রোববার রবিবার সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনের জন্য হাজির করা হয়। টানা নয় দফা পিছিয়ে থাকার পর রোববার তার উপস্থিতিতে আলোচিত কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জগঠন করেন আদালত। এ সময় কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি একা চলাফেরা করতে অক্ষম ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে কারাগারের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে নিয়ে আসেন।
অ্যাম্বুলেন্স থেকে তাকে অসুস্থতার কারণে হুইল চেয়ারে করে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় তার আইনজীবীরা আরিফুল হককে অবিলম্বে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে আদালতকে অবগত করেন। আদালত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আরিফের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারে পৌঁছে আদালতের নির্দেশের কপি। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আজ বুধবার সকাল ১০ টার দিকে সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন বলে জানা গেছে। ওই রিপের্টের উপর নির্ভর করবে আরিফের কারাবন্ধি দিনগুলো কিছু শান্তি ও সুস্থতা।
আরিফুল হক চৌধুরীর পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, কারাগারে আরিফ কিছু খাচ্ছেন না। সারক্ষণ তার চোখ অশ্রুতে ভিজা থাকে। পায়ের ব্যথা ও শারিরীক যন্ত্রনাই এখন কেবলই তার সাথী। স্বজন বা কাউকে দেখলেই আরিফ এখন হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন। কিছু বলার চেষ্টা করলেও তিনি বলতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। ওই হামলায় নিহত হন আরো কয়েকজন। গত ১১ জুন হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ থেকে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ৯ বার পেছানোর পর অবশেষে রোববার ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন