লন্ডনের ইষ্ট লন্ডন মসজিদের ঠিক বিপরীতে গ্রেটোরেক্স ইস্ট্রিটের একটি অফিসে নিজ কার্যালয়ে খুন হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকারিয়া ইসলাম (৪৬)। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা ৩৮ মিনিটে ছুরিকাঘাতের ঘটনার খবর পায় তারা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
তার স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, জাকারিয়া গ্রেটরেক্স স্ট্রিটের কার্যালয়ে ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতেন।
তার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দরপুর গ্রামে। তিনি পূর্ব লন্ডনের মাইলএন্ড রোডের একটি বাসায় থাকতেন।
এনিয়ে গত একমাসে ৩জন বাংলাদেশী ইস্ট লন্ডন এলাকায় হত্যা কান্ডের শিকার হলেন। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় ইষ্ট লন্ডন মসজিদের ঠিক বিপরীতে গ্রেটোরেক্স ইস্ট্রিটের একটি অফিসে এই ন্যাক্কারজনক হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে। নিহত ব্যক্তির নাম জাকারিয়া ইসলাম । তার আনুমানিক বয়স ৪৬। তাকে তার অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এঘটনায় জড়িত আরেক বাঙালীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর স্থানীয় ডাকেট স্ট্রীটের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম রুহুল আহমেদ। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে নিহতের ছোট ভাই জহুল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৩ শে আগস্ট সন্ধ্যায় ‘বো’তে ঘটে ছুরিকাঘাতের ঘটনা। এ ঘটনায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ জমির আলী নিহতের পাশাপাশি ছুরিকাহত হন আরো ৩ শিশু। হামলাকারী নিহত বৃদ্ধের ছেলে সুলুক আহমদ নিজেও ছুরিকাহত ছিলেন। পরে তাকে গ্রেফতার এবং পিতা হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে পুলিশ।
ঘনঘন হত্যাকান্ডের ঘটনায় বাঙালী পাড়ায় আতংক বিরাজ করছে। নিহত ও অভিযুক্ত সকলেই বাঙালী হওয়ায় কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটিতে নিজেদের মধ্যে হানাহানী বন্ধ করতে
সমাজিকভাবে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে অভিজ্ঞ মহল। এতে কমিউনিটি সংগঠন, মসজিদগুলো গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঘনঘন হত্যাকান্ডের পিছনে অনেকটা সমাজিক অবক্ষয়, পারিপারিক ও সমাজিকভাবে অশান্তি এবং বৈষ্ণমকে দায়ী করেছেন অনেকে। এসব বন্ধে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন।
সমাজিকভাবে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে অভিজ্ঞ মহল। এতে কমিউনিটি সংগঠন, মসজিদগুলো গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঘনঘন হত্যাকান্ডের পিছনে অনেকটা সমাজিক অবক্ষয়, পারিপারিক ও সমাজিকভাবে অশান্তি এবং বৈষ্ণমকে দায়ী করেছেন অনেকে। এসব বন্ধে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন।
এদিকে জাকারিয়া ইসলাম হত্যাকান্ডে বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে জানাগেছে হোয়াইটচ্যাপেল এর ৮-১০ গ্রেটরেকস স্ট্রিটের (E1 5NF ) গ্রেটোরেক্স ইস্ট্রিটের বিজনেস সেন্টারে দোতলায় একটি রুম নিয়ে রুকাইয়া (হিজামা) চিকিৎসা করাতেন জাকারিয়া ইসলাম।
হত্যাকান্ডের পর সিসিটিভি চেক করে পুলিশ দেখতে পায়, সোমবার বিকেল ৬:২০ মিনিটের দিকে এক বাক্তি জাকারিয়ার অফিসে আসে। বাক্তিটি তার রুমে প্রবেশের আগে একটি ব্যাগ হাতে কয়েকবার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করে। রুমে ঢুকে দুষ্কৃতিকারী তাকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করেন। এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায় জাকারিয়া মাটিতে লুটিয়ে পরেন এবং হামাগুড়ি দিয়ে পাশের রুমে গিয়ে তাকে রক্ষা করতে বলেন। পাশের রুমের লোকজন তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি সন্ধা পৌনে ৭ টায় মারা যান।
আশেপাশের লোকজন পুলিশ কল করলে তারা আহত দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহত জাকারিয়া ইসলামের গ্রামের বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জের চন্দ্রপুরে | কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। পুলিশ এবিষয়ে তদন্ত করছে। নিহত জাকারিয়া স্ত্রী ও ৩ মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।



0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন