‘শাহ আবদুল করিমের গানের বিকতি’ বিষয়ে `CHANNEL24′ এর একটা ভিডিও
আহমদ সায়েম :: ভাটিবাংলার বাউল দেশবরেণ্য সুরসাধক শাহ আবদুল করিমের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী ১২ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে দেশে এবং দেশের বাইরে নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এই দিনটিতে বাউল করিমের সুরসৌকর্য ও তাঁর জীবনদর্শন উপজীব্য করে শিল্পীর জন্মজেলা সুনামগঞ্জ ও সিলেটে আয়োজিত অসংখ্য অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্য ‘গানের করিম, করিমের গান’ শীর্ষক সিলেটের ‘বইপত্র’ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে অবস্থিত ‘বইপত্র’ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেটের লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী ও করিমানুরাগীদের উপস্থিতিতে স্বতস্ফূর্ত সন্ধ্যায় করিমসংগীতের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করে বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত বক্তা ও সমবেত অংশগ্রহণকারীরা।
“করিম ভাই বড় মানুষ হতে চাননি, চেয়েছেন মানুষ হতে”, কবি তুষার করের বক্তৃতায় এইভাবে উঠে আসে মানুষ করিমের পাশাপাশি মানুষভাবুক ও দরদী করিমের অজানা দিকদিগন্ত। “কিছু নবীন নামলোলুপ গায়ক-মঞ্চশৌখিন মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে আজকাল যারা দাবি করেন যে তারা নাকি করিমের অনেক গানের সুর করে দিয়েছেন!” অত্যন্ত ক্ষুব্ধচিত্তে এই কথা জানিয়ে সিলেটের সাংস্কৃতিক আঙিনায় সুবিদিত নাট্যজন ও গণসংগঠক অম্বরীষ দত্ত আরও বলেন, “করিম তো তরুণ বয়স থেকেই গান বাঁধতেন আর মাঠেঘাটে মানুষের ময়দানে গান করে বেড়াতেন। উনার গান গেয়েই তো অনেকের নামধাম হলো উনারই জীবদ্দশায় এবং আমাদের চোখের সামনে। আর সেই কৃতজ্ঞতাবোধহীন অর্বাচীনেরা আজ স্পর্ধাভরে এইসব অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে এবং আমরা প্রায় নির্বিকার দেখেই চলেছি।”hqdefault copy
কবি শুভেন্দু ইমাম এবং ডক্টর মোস্তাক আহমাদ দীন উভয়েই তাদের বক্তৃতায় নিজেদের জবানে বাউল করিমের সান্নিধ্য ও সাহচর্যের স্মৃতি রোমন্থন করেন। করিমের অভিপ্রেত সুরে গান গাইতে না পারায় সেইসব অপোগণ্ড তরুণ শিল্পীযশোলোভীদের প্রতি করিম কতটা নারাজ ও বীতশ্রদ্ধ ছিলেন, এ নিয়ে কবি-সাহিত্যিক যারা বাউল করিমের সান্নিধ্যে গেছেন তাদের সকলেরই অভিজ্ঞতা আছে। সেইসব অভিজ্ঞতা নানাভাবেই লিপিবদ্ধ হচ্ছে এবং সর্বত্রই সুরশুদ্ধির ব্যাপারে করিমের অভিপ্রায় সম্পর্কে জানার সুযোগ মিলছে। এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে বক্তারা প্রায় সকলেই স্বীকার করেন যে করিমচর্চা সারাদেশে এবং বিশেষভাবেই সিলেট অঞ্চলে বেগবান করার জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সবাইকে এগোতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের লোকসাহিত্য ও জনসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারের কোনো অনায়াস ও সংক্ষিপ্ত পথ নাই বলে মনে করেন সভায় সমবেতজনেরা। আলোচনা সভার পর গানের জলসার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।
সিলেটের অগণিত করিমানুরাগীদের মধ্যে নিভৃত ও নিষ্ঠাব্রতী একাংশের মধ্যে লোকগানগবেষক সুমনকুমার দাশ, কবি মালেকুল হক প্রমুখ অনুষ্ঠানে শরিক হয়েছিলেন। কবি শুভেন্দু ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সঞ্জয় কুমার নাথ।

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন