728x90 AdSpace

ব্রেকিং
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৫

জৈন্তাপুরে শিশুপুত্র নির্যাতনের বিচার চেয়ে নিরাপত্তাহীন আবুল

জৈন্তাপুরে ১৩ বছরের শিশুপুত্র কামরুল’র উপর নির্যাতনকারীরা আবারো ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিশুর উপর নির্যাতনের পর এবার তার পিতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রানে মারার হুমকি দিচ্ছে নির্যাতনকারীরা। শিশুর উপর বর্বর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করে নিজেই নিরাপত্তাহীন হয়েছেন জৈন্তাপুরের ঘাটেরছটির গ্রামের নির্যাতিত শিশুপুত্র কামরুলের পিতা দরিদ্র মৎসজীবি আবুল হোসেন। এ ঘটনায় প্রথমে গ্রামের সালিশি ব্যক্তিরা ‘নির্যাতিত পরিবার’-কে এক ঘরে করে রাখলেও এখন ঘটনাটি মিমাংসার উদ্যোগী হয়েছেন। এ কারনে ক্রমাগত হুমকির মুখে রাখা হচ্ছে আবুল হোসেনকে। সালিশি ব্যক্তিদের দেওয়া সহায়তার সাড়ে ৪ হাজার টাকাও এখন ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে থানায় নতুন করে অভিযোগ দিয়েছেন আবুল হোসেন। আর নির্মম ঘটনা শেষ করতে সালিশি ব্যক্তিদের সক্রিয় হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় চলছে জৈন্তাপুরের চিকনাগুল এলাকায়।
সিলেটের জৈন্তাপুরের ঘাটেরছটি যাত্রাপুর গ্রামের আবুল হোসেন একজন দরিদ্র মৎসজীবি। নৌকা নিয়ে স্থানীয় বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। আর এ কাজে তাকে সহায়তা করে শিশুপুত্র কামরুল ইসলাম। কামরুলের বয়স ১৩ বছর। অনেক সময় পিতার অনুপস্থিতিতে কামরুল ইসলাম নিজেই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যেতো। ওদিকে, দরিদ্র মৎসজীবি আবুল’র নৌকা প্রায় সময় জোরপূর্বক ব্যবহার করতো একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান, আব্দুল আলী, হেলাল উদ্দিন ও আজিরউদ্দিন। তারা রাতে নোঙ্গর করা নৌকা নিয়ে চলে যেতো। পরে ভোরে এনে রেখে দিত। প্রায় সময় দিনের বেলাও নিয়ে যেতো। এ কারনে কামরুল ও তার পিতা আবুল রাতে নৌকা ঘাটে নোঙ্গর করার সময় ডুবিয়ে রাখতেন। এতে ক্ষেপে উঠেন আব্দুল হান্নান সহ তাদের সঙ্গীরা।
গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে শিশু কামরুলকে ধরে নিয়ে যায় তারা। কামরুল তখন তার বাবার জন্যে হাওরে রাতের খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। কামরুলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর একটি ঘরে আটকে রাতভর চালানো হয় নির্যাতন। একজন কিংবা দু’জন নয় মহিলাসহ পাঁচজন এই নির্যাতনে অংশ নেন। ব্যাথায় যাতে সে চিৎকার করতে না পারে সে জন্যে তার মুখ সেফটিপিনে আটকে দেওয়া হয়। শুধু সেফটিপিন নয় পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তার হাত। নির্যাতনের সময় স্টিলের গ্লাাস গরম করে ছ্যাকা দেয়া হয়েছে শরীরে বিভিন্ন স্থানে। ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় লোকজন মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর থানা কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, কামরুলের উপর নির্যাতনের ঘটনায় তার পিতা প্রথমেই জৈন্তাপুর থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তখন পুলিশ তার মামলা রেকর্ড না করে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুশ শহীদ সহ এলাকার ৫জনকে বিষয়টি সমাধানের সুযোগ দেন। ওই সময় এলাকায় এ নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত পরিবারকে ডাকলেও তারা আসেননি। এ কারনে তাদের পরিবারকে ‘পঞ্চায়েতের বাদ’ করে রাখা হয়। এবং ক্ষুব্ধ এলাকা অভিযুক্ত হনুফাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। আর স্থানীয় সালিশের বৈঠকের সিদ্বান্তের প্রেক্ষিতে পুলিশ ১৭ই সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন। মামলার পর ২০ শে সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান, আব্দুল আলী, হেলাল উদ্দিন ও আজিরউদ্দিন জামিন নিতে গিয়ে আটক হন।
গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিন চাইলে আদালত আব্দুল হান্নান ও আজিরউদ্দিনের জামিন মঞ্জুর করেন। এদিকে, আব্দুল হান্নান ও আজিরউদ্দিন জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদি আবুল হোসেনকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সিলেটের জৈন্তাপুর থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি নতুন করে মৃত আব্দুস সালামের পুত্র আব্দুশ শুকুর, স্থানীয় মেম্বার আব্দুশ শহীদ ও আনোয়ার হোসেন নামে সাধারণ ডায়রী দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার আব্দুল হান্নান সহ চারজন তাকে বাড়ির সামনে পেয়ে অকথ্যা ভাষায় গালিগালাজ করেন। এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনার স্বাক্ষী হিসেবে তাজুল ইসলাম, অহিদুর রহমান, মাদেক মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
কামরুলের পিতা আবুল হোসেন জানিয়েছেন, আমার ছেলেকে নির্যাতন করে হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। মেম্বার আব্দুশ শহীদ ও আনোয়ার হোসেন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী হাত মিলিয়ে তাকে সহ পরিবারের অন্যদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, এখন তাকে সহায়তা দেওয়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা ফেরত চাইছেন তারা। তিনি জানান, প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে কামরুলকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। আবুল হোসেন জানান, তার শিশু পুত্র কামরুল এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেনি। রাতে আৎকে উঠে। বেশী লোকজন দেখলে ভয়ে কেঁদে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জৈন্তাপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর কাজী শাহেদুল ইসলাম জানান, হানিফার ইন্ধনেই কামরুলকে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে হানিফার স্বামী ও তিন ভাই। নৌকা নিয়ে বিরোধের জেরেই কামরুলকে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, আব্দুশ শহীদ মেম্বার জানিয়েছেন, তিনি প্রথমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছেন। এখন তিনি নিরব রয়েছেন। আর সালিসি ব্যক্তিরা আসামিদের কাছ থেকে নিয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাদির হাতে দিয়েছিলেন। এ কারনে এখন ওই টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে।
চিকনাগুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম জাকারিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি আইনে দেখবে। এখানে সালিশ’র কিছুই করার নেই। কারন, শিশু নির্যাতনের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হলে এসব ঘটনা কমবে না।
  • আপনার মতামত
  • ফেসবুকে মতামত দিন

0 facebook:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Item Reviewed: জৈন্তাপুরে শিশুপুত্র নির্যাতনের বিচার চেয়ে নিরাপত্তাহীন আবুল Rating: 5 Reviewed By: Unknown