ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের বেশোহাটায় সৎকার না করে ছ’দিন ধরে প্রবীর পালের (৬৭) মৃতদেহ আগলে রেখেছিলেন ছোট ভাই প্রদীপ পাল। শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ওই বাড়ির দোতলার ঘরের খাট থেকে প্রবীর পালের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
প্রদীপ পাল জানান, ‘গত রোববার রাতে ভাই বাথরুমে পড়ে যায়। আমি ওকে খাটে এনে শুইয়ে দিই। ওখানেই মারা যায়। ভাই বলেছিল, মরে গেলে ওর দেহ সৎকার না করতে। ভাই আবার বেঁচে উঠতে পারে মনে করে তার দেহ বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলাম।’
তবে, স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রদীপ পালের মধ্যে ইদানীং মানসিক ভারসাম্যের অভাব দেখা যাচ্ছিল। তদন্তকারীরাও মনে করেন, প্রদীপ পালের কথাবার্তার মধ্যে অসংলগ্নতা রয়েছে। তিনি স্বাভাবিক নন।
প্রদীপ পালের দাবি , গত রোববার রাতে তাঁর ভাই মারা যান। কিন্তু প্রবীর পাল বাথরুমে পড়ে গিয়ে থাকলেও তিনি চিকিৎসককে ডাকেননি কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রদীপ পালের জবাব, ‘যখন মরেই গিয়েছে, তখন কেন চিকিৎসক ডাকব?’
প্রদীপ পালেরা চার ভাই। বড় ভাই প্রতাপ বছর খানেক আগে মারা যান। সেজো ভাই কর্মসূত্রে অন্যত্র থাকেন। ছোটভাই প্রবীরকে নিয়ে মেজো ভাই প্রদীপ পাল ওই বাড়িতে থাকতেন। প্রবীর পাল থাকতেন দোতলায়। প্রদীপ পাল থাকেন এক তলায়। দু’জনেই অবিবাহিত। বাড়ির নীচেই প্রদীপ পালের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মাঝামাঝি কলকাতার ৩ নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাট থেকে একটি নরকঙ্কাল এবং দু’টি কুকুরের কঙ্কাল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে জানা যায়, নরকঙ্কালটি ওই বাড়ির বাসিন্দা পার্থ দে’র বোন দেবযানীর। কুকুরগুলি ছিল তাঁর পোষ্য। দেবযানীর মৃত্যুর পরেও কাউকে কিছু না জানিয়ে পার্থ দেহ আগলে রেখে দিয়েছিলেন।

0 facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন