728x90 AdSpace

ব্রেকিং
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

মৌলভীবাজারে গৃহকর্মীর প্রতি এ কেমন বর্বরতা!

মেয়েটির নাম নাজমা বেগম (১৬)। দারিদ্রতার সংসারে ঘরে কিছু বাড়তি টাকা নিয়ে নিয়ে আসতে নাজমাকে পাশের গ্রামের রাবেয়া বেগমের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজে পঠিয়েছিলেন বাবা। বাড়তি টাকা নিয়ে আসার বদলে পচে যাওয়া ক্ষত বিক্ষত শরীর নিয়ে এসেছে সে। বর্তমানে মেয়টি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
গৃহকর্মীর উপর এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির পাঁচাপাড়া গ্রামে। এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বড়লেখা থানায় তিন জনকে আসামীকে করে একটি মামলা দায়ের করেছেন নাজমার বাবা মনসুর আলী। মামলা দায়েরের পর পুলিশ গৃহকর্তি রাবেয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিছরাবন্দ গ্রামের হতদরিদ্র মনসুর আলী অভাবের তাড়নায় মেয়ে নাজমা বেগমকে গৃহকর্মীর কাজে দেন পাঁচপাড়া গ্রামের আজির উদ্দিনের বাড়িতে। প্রায় এক বছর পূর্বে মেয়টিকে ঝিয়ের কাজের জন্য আজির উদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম নিজ জিম্মায় নাজমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। এর প্রায় ৩ মাস পর নাজমার পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তাকে নিজের মেয়ে লুৎফার শশুর বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে পাঠিয়ে দেন রাবেয়া বেগম।
প্রায় ৩ মাস পূর্বে থেকে নাজমা নিজের পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এসময় নাজমার বাবা-মা মেয়ের খোঁজ করলেও রাবেয়ার পরিবার থেকে বলা হয়-তোমার মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঈদের দিন মেয়েকে দেখতে বড়লেখার পাঁচপাড়া গ্রামের আজির উদ্দিনের বাড়িতে উপস্থিত হন নাজমার বাবা-মা। এসময়ও নাজমা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে বলে জানান রাবেয়া। তবে রাবেয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামী আজির উদ্দিন ফাঁস করে দেন সব গোঁমর। তিনি মনসুর আলীকে বলেন “ওই বেটা তর পুড়ি তো আমার ঘরো বন্ধি ৩ মাস ধরিয়া। তর পুড়িরে লইয়া যা”।
এ কথা শুনে মনসুর আলী এলাকার লোকজনের সহযোগীতায় গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে ও শরীর ক্ষতবিক্ষত ছিলো।
গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটি বর্তমানে হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৬নং ওয়ার্ডের ৭নং বেডে চিকিৎসাধীন আছে।
নাজমার পিতা মনসুর জানান, আমি দরিদ্র মানুষ। আমার মেয়েটিকে ঝিয়ের কাজের কথা বলে প্রায় এক বছর পূর্বে রাবেয়া বেগম তার বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি আমাদের না বলে তার মেয়ে লুৎফা বেগমের শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন নাজমাকে।
মেয়ের বরাত দিয়ে পিতা মনসুর বলেন, তারা আমার মেয়েকে বাসায় আটকে রেখে প্রতিদিন রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে পেটাতো। প্রতিদিন চলতো নির্যাতন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন নাজমার একটি পা কেটে ফেলতে হতে পারে। এছাড়া আমার মেয়েটির শরীরে অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন রয়েছে নির্যাতনের। গত ৩ মাস থেকে আমার মেয়ের সাথে তারা কোন যোগাযোগ করতে দেয়নি। আমরা যত বার ফোন দিয়েছি তারা বলেছেন, আমার মেয়েকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় রাবেয়া বেগম, তার মেয়ে লুৎফা বেগম ও লুৎফার জা রুবিকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ রাবেয়াকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
  • আপনার মতামত
  • ফেসবুকে মতামত দিন

0 facebook:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Item Reviewed: মৌলভীবাজারে গৃহকর্মীর প্রতি এ কেমন বর্বরতা! Rating: 5 Reviewed By: Unknown